১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন লাখ লাখ তরুন, যুবক, ছাত্র, শিক্ষক এবং বিভিন্ন পেশার মানুষজন। স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন এদেশের সব বয়সী মানুষ।
স্বাধীনতার জন্য যারা জীবনদানকারি সংখ্যা অনেক, তার মধ্যে কিছু আছে সর্বশ্রেষ্ঠ। যাদের অবদান যুগ যুগ ধরে তরুন প্রজন্ম মনে রাখবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগকারী বীরশ্রেষ্ঠদের পরিচিতি আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম।

১. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: তিনি ৭ মার্চ, ১৯৪৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি সেনাবাহিনীর একজন সদস্য। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৭ নং সেক্টরে কাজ করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি শহিদ হন। তাকেঁ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদে সমাহিত করা হয়।
২. সিপাহী হামিদুর রহমান: তিনি ২ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪ নং সেক্টরে মৌলভী বাজারে কাজ করেন। পেশায় একজন সেনাবাহিনীর সদস্য। ২৮ অক্টেবর, ১৯৭১ সালে মৌলভী বাজারের মাধবপুরে শহিদ হন।
৩. সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল: ১৯৪৯ সালে ভোলা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন সিপাহী। মুক্তিযুদ্ধে ২ নং সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে শহিদ হন। ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আখাউডার মোগড়া গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।
৪. স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন: ১৯৩৫ সালে নোয়াখালীর জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘচাপড়া ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পদবী ছিলো স্কোয়াড্রন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ১০ নং সেক্টরে কাজ করেন। ১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের ১০ তারিখে খুলনার রুপসা নদীতে শহীদ হন।
৫. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান: ১৯৪১ সালে ঢাকায় তিনি জন্মগ্রহন করেন। তিনি বিমান বাহিনরি একজন লেফটেন্যান্ট হিসেবে পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন। ২০ আগস্ট, ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহারের জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি টি- ৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করে নিয়ে আসার সময় তিনি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাঁর সমাধিস্থল ছিল পাকিস্তানের করাচির মৌরিপুর মাশরুর বিমান ঘাটিতে। পরে ২০০৬ সালে তাঁর দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাঁকে মিরপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
৬. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ: তিনি ফরিদপুর জেলায় ১৯৪৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কর্মস্থল ছিল ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস বা ই.পি.আর। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নং সেক্টরে দায়িত্ব পালন করেন। ৮ এপ্রিল ১৯৭১ সালে রাঙামাটিতে তিনি শহিদ হন। বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম শহিদ হন।
৭. ল্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ শেখ: ১৯৩৬ সালে নড়াইল জেলায় জন্ম গ্রহন করেন। ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ছিল তাঁর কর্মস্থল। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ৮ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে তিনি শহিদ হন। তাঁকে যশোরের শর্শা উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে সমাহিত করা হয়।
0 Comments